Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » শিক্ষা » বিস্তারিত

ফাঁকা চেকে কুবি উপাচার্যের স্বাক্ষর!

২০১৭ নভেম্বর ২৮ ১৯:৩২:৫১
ফাঁকা চেকে কুবি উপাচার্যের স্বাক্ষর!

কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বেশ কয়েকজন শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপাচার্যপন্থী কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কথা বলে কোন বাহক বা অ্যাকাউন্ট উল্লেখ না করে বিশাল অংকের টাকার পরিমাণ লিখে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আলী আশরাফ। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে শিক্ষক সমিতি।

জানা গেছে, দেশব্যাপী ভয়াবহ বন্যাদূর্গতদের সাহায্যার্থে কুবি শিক্ষক সমিতি গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একদিনের বেতনের টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর আবেদন করে। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় এক মাস পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বরে শিক্ষকদের বেতনের একদিনের সমপরিমাণ টাকা কাটার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবেন উল্লেখ করে ৭৮জন শিক্ষকের স্বাক্ষর সংযুক্ত করে পাল্টা আবেদন করেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষক দুলাল চন্দ্র নন্দী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।

ওই দিনই আবার তারা একদিনের সমপরিমাণ টাকা কেটে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর জন্য আরেকটি আবেদন করেন। তবে আবেদন দুটির সাথে ৭৮জন শিক্ষকের সংযুক্ত স্বাক্ষর ১৭ জুলাইয়ে নেয়া। আবেদন ১৮ সেপ্টেম্বরের হলে কিভাবে ঐ শিক্ষকদের স্বাক্ষর জুলাই মাসের হয় এমন অসংগতির অভিযোগ শিক্ষক সমিতির।

না জানিয়ে এ আবেদন দুটিতে তাদের স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান কয়েকজন শিক্ষক।

এ তালিকার মধ্যে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও তিনি ঐ স্বাক্ষর করেননি জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিষয়টির সাথে এক মত ছিলাম না। আমি আপত্তি করায় আমার টাকা কাটা হয়নি।’

এ.আই.এস বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি কি কারণে ওই কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন এমন প্রশ্নেরও কোন উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।

ওই আবেদনের সকল শিক্ষকদের পক্ষে স্বাক্ষর করা প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেছেন, ‘যাদের টাকা কাটা হয়েছে তারা কেউ তো আপত্তি করছে না।’ পুরাতন স্বাক্ষর দিয়ে কেন তাহলে আবেদন করলেন যেখানে আপনার নিজের স্বাক্ষরও পুরাতন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষক সমিতির কোন সিদ্ধান্তে আমরা একমত নই এমন একটি সিদ্ধান্ত জুলাইয়ে হয়েছিল বলে ঐ স্বাক্ষরই সংযুক্ত করে দেই।’

শিক্ষক সমিতির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপাচার্যের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়স্থ জনতা ব্যাংকের শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অ্যাকাউন্ট (চলিত হিসাব নং-১০১১০০০৮৬৯) থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কথা বলে কোন অ্যাকাউন্ট বা বাহকের নাম উল্লেখ না করে ৮০ হাজার ৭১ টাকার একটি চেকে (চেক নং: ২৬০৮৫০৭) স্বাক্ষর করেন। ঐ চেকটিতে উপাচার্যের পাশাপাশি অর্থ ও হিসাব শাখার উপ-পরিচালক কামাল উদ্দিনের স্বাক্ষরও রয়েছে। চেকটির টাকা এখনও উত্তোলন করা হয়নি বলে জানান জনতা ব্যাংক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপক মনির হোসেন। বাহকের নাম খালি রেখে চেকে স্বাক্ষর করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ব্যাংকের এ কর্মকর্তা, কেননা তাতে অপব্যবহারের ভয় থাকে।

একটি চেকে টাকার অংশ বসিয়ে কোন বাহকের নাম না লিখে কিভাবে স্বাক্ষর করলেন এমন প্রশ্নে অর্থ ও হিসাব শাখার উপ-পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদকদের বলেছেন, ‘চেকটি কাকে দেওয়া হবে এ ব্যাপরে কোন সিদ্ধান্ত শিক্ষকরা নিতে পারেননি।’

এ দিকে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের ফলে গত ১৬ অক্টোবর থেকে নিজ কার্যলয়ে আসতে পারছেন না উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ। তিনি বাসবভনে অবস্থান করায় মঙ্গলবার বিকালে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিশ্রামে আছেন বলে তার এক কর্মচারী জানান। এরপরও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

(দ্য রিপোর্ট/জেডটি/নভেম্বর ২৮, ২০১৭)