প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

চাহিদা কম, উৎপাদন ক্ষমতা বেশি

‘সিমেন্ট শিল্প বাঁচাতে মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া উপায় নেই’

২০১৭ ডিসেম্বর ২১ ১৮:৫৪:১২
‘সিমেন্ট শিল্প বাঁচাতে মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া উপায় নেই’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : চাহিদার অভাবে পুরো উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অধিকাংশ সিমেন্ট কারখানা। পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্লিংকারসহ কাঁচামালের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে সিমেন্ট খাতে মুনাফার হার সর্বনিন্ম পর্যায়ে চলে এসেছে। এ অবস্থায় দেশে নতুন সিমেন্টের মূল্য বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তারা জানান, সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেশের সিমেন্ট খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

সরকারি হিসাবে দেশে সিমেন্ট কারখানার সংখ্যা ১২৩টি। এরমধ্যে মাত্র ৩৩টিতে বর্তমানে উৎপাদন চালু রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টন। কিন্তু দেশীয় চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে দেশে ২ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন সিমেন্ট উৎপাদিত হচ্ছে। যা উৎপাদন ক্ষমতার ৬০ শতাংশ। বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না কারখানাগুলো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিমেন্ট কারখানায় নিয়মিতভাবে নতুন বিনিয়োগ করতে হয়। তবে দেশে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় চাহিদা না বাড়ায় অধিকাংশ কারখানাই নতুন বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকে না। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদনে বাধ্য হওয়ায় সিমেন্টের উৎপাদনে পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। এতে উৎপাদিত সিমেন্টের মান বজায় রাখতে গিয়ে মূল্য বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন উৎপাদকরা।

জানা গেছে, সিমেন্ট শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও এ শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকারের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। সিমেন্ট কারখানা গুলো চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে ক্লিংকার আমদানি করে উৎপাদন করে। ফলে ডলারের দামের উঠানামা এ খাতের উৎপাদন খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। গত কয়েক মাসে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সিমেন্ট উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এরসঙ্গে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মুনাফার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে সিমেন্ট কোম্পানিগুলো। এ অবস্থায় নতুন করে দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চিন্তা করছে তারা।

এ বিষয়ে সিয়াম সিটি সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি এন আইয়ার বলেছেন, ‘আন্তজাতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ জটের কারণে গত কয়েক বছরে ক্লিংকারসহ কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। তার উপর এ বছরের শুরুতে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে বাল্ক পণ্যের পরিবহণ ব্যয় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। গত কয়েক মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় সিমেন্ট উৎপাদনে মুনাফার হার কমে গেছে। এরমধ্যে আবার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে যেসব কোম্পানির নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট নেই, তাদের ব্যয় বেড়েছে। নানাভাবে খরচ বাড়লেও উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে চাহিদা কম থাকায় সিমেন্টের দাম অনেকটা নিস্মমুখী। সব মিলিয়ে সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সর্বনিন্ম মুনাফায় ব্যবসা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত বাজারে সিমেন্টের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো ছাড়া গতি নেই।’

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, নানা কারণে সম্প্রতি মুনাফার পরিমান নগণ্য পর্যায়ে চলে এসেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়ে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় মূল্য সমন্বয় ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা নেই।

(দ্য রিপোর্ট/জেডটি/ডিসেম্বর ২১, ২০১৭)