Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

সাইবার অপরাধ নজরদারিতে অপপ্রয়োগের আশঙ্কায় টিআইবি

২০১৮ জানুয়ারি ১১ ২১:০৯:০২
সাইবার অপরাধ নজরদারিতে অপপ্রয়োগের আশঙ্কায় টিআইবি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশের বিশেষ ইউনিটের সাইবার অপরাধ নজরদারি অপরিহার্য, তবে অপপ্রয়োগে মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের ইউনিট যদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে এই নজরদারি ঝুঁকিপূর্ণ ও আত্মঘাতী হতে পারে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও উসকানিমূলক এবং অপরাধমূলক প্রচারণাকারীদের নজরদারির লক্ষ্যে সরকার বিশেষ সফটওয়্যার সমৃদ্ধ পুলিশের বিশেষায়িত একটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। তাই এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য। তবে নজরদারিতে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সততা, পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি থাকলে এ ধরনের নজরদারির মাধ্যমে জনগণের বাক্স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে এ ধরনের ইউনিট যদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হয় তাহলে উক্ত নজরদারি ঝুঁকিপূর্ণ ও আত্মঘাতী হতে পারে।’

বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ৫৭ ধারার কারণে ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়েছে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কারণে বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়েছে। যার স্বীকৃতিস্বরূপ মাননীয় আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী উক্ত ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। সে প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে উল্লিখিত প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর আগে এর সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন বিশেষ করে অর্পিত ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারি নিশ্চিতের জন্য কঠোর পরিবীক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিধিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাও অপরিহার্য মনে করছে টিআইবি।’

(দ্য রিপোর্ট/জেডটি/জানুয়ারি ১১, ২০১৮)