Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদ

নজরুলের ছোটগল্প : কতিপয় বিবেচনা

২০১৮ মে ২৫ ১৪:৩০:৪৯
নজরুলের ছোটগল্প : কতিপয় বিবেচনা

গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদ

[প্রিয় পাঠক, এই নিবন্ধ পাঠে কাজী নজরুল ইসলামের ছোটগল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আপনারা জানতে পারবেন। এটা ঠিক যে, বাংলা সাহিত্যে কবি ও গীতিকবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নেতিবাচক মূল্যায়ন খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু ছোটগল্প বা কথাসাহিত্যে নজরুলের দক্ষতা নিয়ে গবেষক-সমালোচকবৃন্দের সংশয় রযেছে। লেখক প্রফেসর গাজী মো: মাহবুব মুর্শিদ তাঁর এ ধারাবাহিক গবেষণা নিবন্ধে নজরুলের ছোটগল্পের মান-যাচাই, উৎকর্ষ বিচার নিয়ে দৃষ্টিপাত করেছেন। সাথে সাথে সৈনিক নজরুল সম্পর্কেও কিছুটা আলোপাত করেছেন। লেখকের মতে, গল্পকার তথা সাহিত্যিক নজরুল-সত্তার উন্মেষের ক্ষেত্রে পল্টন জীবনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।প্রসঙ্গত, আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে আমরা ফুটনোট ব্যবহার করতে পারিনি। নিবন্ধটির শেষে উল্লেখপঞ্জি দেওয়া হয়েছে। বি. স]

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) অবস্থান সুনিশ্চিত, তাঁর শিল্প কুশলতা অসংশয়িত। অবশ্য সংগীত-সৃজন ও কাব্য-নির্মাণের ক্ষেত্রে নজরুলের এরূপ সাফল্য সম্পর্কে সমালোচক-মহল নিঃসন্দিহান হলেও কথাসাহিত্য প্রসঙ্গে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুরূপ নয়। তাঁদের

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) অবস্থান সুনিশ্চিত, তাঁর শিল্প কুশলতা অসংশয়িত। অবশ্য সংগীত-সৃজন ও কাব্য-নির্মাণের ক্ষেত্রে নজরুলের এরূপ সাফল্য সম্পর্কে সমালোচক-মহল নিঃসন্দিহান হলেও কথাসাহিত্য প্রসঙ্গে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুরূপ নয়। তাঁদের অভিমত, নজরুল-কাব্যের লিরিকধর্মিতায় আচ্ছন্ন নজরুল-গদ্যের দার্ঢ্য যথেষ্ট নয়। প্রকৃতপ্রস্তাবে, এরূপ ধারণা পোষণকারী গবেষক-সমালোচকবৃন্দের এই মনোভঙ্গি একেবারে অমূলক বলা যাবে না। তবে কাজী নজরুল ইসলামের কথাসাহিত্য সম্পর্কে এই সাধারণীকরণকে আমরা অগ্রহণযোগ্য মনে করি। আমরা মনে করি, উৎকৃষ্ট নজরুল-সাহিত্যের অঙ্গীভূত হওয়ার যোগ্যতা তাঁর বেশ কিছু কথাশিল্পে বিদ্যমান। এ ক্ষেত্রে আমরা আলোচনার জন্য বেছে নিয়েছি, কথাসাহিত্যের একটি রূপ - ছোটগল্পকে। নজরুলের ছোটগল্প সৃজনের প্রেক্ষাপট ও শিল্প-নৈপুণ্যের বিচার-বিশ্লেষণ এই নিবন্ধের মূল অভীষ্ট।

কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ তিনটি - ব্যথার দান (ফাল্গুন, ১৩২৮), রিক্তের বেদন (পৌষ, ১৩৩১ ), শিউলিমালা (কার্তিক, ১৩৩৮ ); গল্পের সংখ্যা ২০ টি। অবশ্য এর মধ্যে দুটি গল্প (বনের পাপিয়া, হারা ছেলের চিঠি) গ্রন্থভুক্ত ছিলনা, পরবর্তী সময়ে রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নজরুলের গ্রন্থভুক্ত গল্পসমূহ হচ্ছে - ব্যাথার দান : ব্যাথার দান, হেনা, বাদল-বরিষণে, ঘুমের ঘোরে, অতৃপ্ত কামনা, রাজবন্দীর চিঠি; রিক্তের বেদন : রিক্তের বেদন, বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী, মেহের নেগার, সাঁঝের মায়া, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামীহারা, দুরন্ত পথিক; শিউলিমালা : পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশাহ, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা। এখানে প্রাসঙ্গিক দুএকটি কথা বলা প্রয়োজন। প্রতিথযশা নজরুল-গবেষকদের মধ্যে গল্পগ্রন্থের বাংলা প্রকাশকাল নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও ইংরেজি তারিখ নিয়ে ভিন্নমত লক্ষ করা যায়।

ব্যথার দান ও রিক্তের বেদনের ইংরেজি প্রকাশসাল নিয়ে এই বিভ্রান্তি। বাংলা একাডেমী জন্মশতবর্ষ সংস্করণ রচনাবলী ও নজরুল তারিখ অভিধানে ব্যথার দানের প্রকাশ সাল ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে, কিন্তু নজরুল নির্দেশিকায় একই বছরের মার্চে। একইভাবে রিক্তের বেদন, রচনাবলী ও তারিখ অভিধানে ১৯২৪ এর ডিসেম্বরে প্রকাশিত বলে নির্দেশিত, কিন্তু নজরুল নির্দেশিকায় তা ১৯২৫ সালের জানুয়ারিতে।

উল্লেখ্য তথ্যের ভিন্নতা থাকলেও জন্মশতবর্ষ সংস্করণ রচনাবলীর প্রধান সম্পাদক ও নজরুল নির্দেশিকার লেখক একই ব্যক্তি - নজরুল গবেষক প্রফেসর ডক্টর রফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলীর জন্মশতবর্ষ সংস্করণ-এ অগ্রন্থিত গল্পদুটিসহ মোট গল্পের সংখ্যা কুড়িটি হলেও এর পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত (নবম মুদ্রণ, ফেব্রুয়ারি ২০১৬) নজরুল ইন্সটিটিউটের নজরুলের ছোটগল্প সমগ্রে আমরা ‘হারা ছেলের চিঠি’ গল্পটিকে অনুপস্থিত দেখতে পাই। অথচ এই নজরুলের ছোটগল্প সমগ্রের‘ প্রসঙ্গ-কথা’য় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমির নজরুল রচনাবলীর অনুসরণে সৃষ্ট।’ আবার বাংলা একাডেমির জন্মশতবর্ষ সংস্করণ-এর পঞ্চম খণ্ডে সংকলিত ‘হারা ছেলের চিঠি’ গল্পটি একই সংস্করণের নবম খণ্ডে পুণরায় মুদ্রিত হয়েছে। বস্তুত, এ সকল উদাহরণ নজরুল-সাহিত্যের প্রতি আমাদের সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে না।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ যেমন একটি গল্প-সংকলন (ব্যথার দান); একইভাবে তার প্রথম প্রকাশিত রচনাও একটি ছোটগল্প ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’। করাচি সেনানিবাসে বসে লেখা এবং সেখান থেকেই পাঠানো এই গল্পটি ‘সওগাত’ পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সৈনিক জীবনে (করাচিতে রচিত ও প্রেরিত) প্রকাশিত রচনাসমূহের একটি তালিকা প্রখ্যাত নজরুল-গবেষক রফিকুল ইসলাম দিয়েছেন। (দ্র. রফিকুল ২০১২ : ৩৫) এই তালিকার দশটি রচনার ছটিই গল্প- ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’, ‘স্বামীহারা’, ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’ ও ‘ঘুমের ঘোরে’। অবশ্য গবেষক মাহবুবুল হক তাঁর নজরুল তারিখ অভিধানে জানাচ্ছেন, ‘বাদল বরিষণে’ গল্পটিও করাচি সেনানিবাস থেকে পাঠানো। (মাহবুবুল : ২০১০ : ১৭) উল্লেখ্য বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হলে নজরুল ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মার্চে কলকাতায় স্থায়িভাবে চলে আসেন। ১৯২০-এর মার্চের পরে এপ্রিলে প্রকাশিত ‘রিক্তের বেদন’ ছোটগল্পটি পর্যালোচনা করে আমরা দেখতে পাই, এখানে পূর্বে উল্লিখিত গল্পসমূহের ধারাবাহিকতা অর্থাৎ সৈনিক-জীবনের নানা প্রসঙ্গ প্রতিম্বিত হয়েছে। সুতরাং এ কথা বলা যায়, গল্পটি হয় করাচি থাকাকালে রচিত অথবা করাচির সৈনিক-জীবনের অনুপ্রেরণায় সৃষ্ট ।

নজরুল ইসলামের ছোটগল্পসমূহকে আমরা দুটি পর্বে বিভাজিত করতে পারি। একটু মোটাদাগে বললে - ব্যথার দান ও রিক্তের বেদন প্রথম পর্বে এবং শিউলিমালা দ্বিতীয় পর্বে - এভাবে বলা যায়। লক্ষণীয় পূর্বের আটটি গল্পের সবগুলোই ব্যথার দান ও রিক্তের বেদনে সংকলিত। এর বাইরে যে-সব গল্প এই দুটি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলোও ১৯২১ সালের জানুয়ারির মধ্যেই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত। গল্পগুলি হচ্ছে ‘সালেক’ (জুন,১৯২০, বকুল পত্রিকায় সালিক শিরোনামে প্রকাশিত), ‘অতৃপ্ত কামনা’ (জুলাই ১৯২০, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা), ‘দুরন্ত পথিক’ (সেপ্টে¤¦র, ১৯২০, দৈনিক নবযুগ ও মোসলেম ভারত), সাঁঝের তারা (জানুয়ারি ১৯২১, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা), রাক্ষুসী (জানুয়ারি ১৯২১, সওগাত)। উল্লেখ্য, ব্যথার দান গ্রন্থভুক্ত ‘রাজবন্দীর চিঠি’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নি -সরাসরি গ্রন্থে অংশভুক্ত হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলামের গল্পসমূহের রচনাকাল বিশ্লেষণে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় - তাঁর সাহিত্যিক হয়ে ওঠার পেছনে সৈনিকজীবনের প্রভাব অপরিসীম। বিশেষত গল্পকার নজরুলের ক্ষেত্রে সৈনিক নজরুলের অবদান যে অনস্বীকার্য, আমাদের পূর্ববর্তী আলোচনায় আশা করি সেটি স্পষ্ট হয়েছে। এ ছাড়াও প্রথম পর্বের বেশ কটি নজরুল-গল্পে সেনা-জীবনের খুঁটিনাটি দিক, যুদ্ধক্ষেত্র, যুদ্ধের বর্ণনা, সৈনিকের আত্মকথন ইত্যাদি বিষয়রূপে উঠে এসেছে। এ জন্য নজরুলের ছোটগল্পের আলোচনায় প্রবিষ্ট হওয়ার পূর্বে তাঁর ব্যারাক-জীবনের একটু সুলুক-সন্ধানের প্রয়োজন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি পল্টনে নজরুল যোগ দেন ১৯১৭ সালের শেষার্ধে, সম্ভবত আগস্ট বা সেপ্টেমরে। নজরুল তখন রাণীগঞ্জ শিয়ারশোল রাজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। ‘১৯১৬ সালে ৭ আগস্ট ব্রিটিশ সরকার বাঙালির জন্য পল্টন বা সামরিক ইউনিট গঠনের ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ ভারতে এটিই প্রথম ও শেষ বাঙালি পল্টন। (লুৎফুল ২০১৩ : ১২৩) প্রথমে এই ইউনিটের নাম ‘বেঙ্গলি ডবল কোম্পানি’ থাকলেও পরবর্তী সময়ে এর নামকরণ করা হয় ৪৯তম ‘বেঙ্গলি রেজিমেন্ট’ বা সংক্ষেপে ‘৪৯তম বেঙ্গলিজ’। আমরা এটাকেই বাঙালি পল্টন হিসেবে জানি।

নজরুলের সৈনিক জীবনের আনুপূর্বিক বিচার-বিশ্লেষণ এই সীমিত পরিসরে সম্ভবপর নয় এবং আমাদের তা প্রয়োজনও নেই। কিন্তু গল্পকার নজরুলকে অনুধাবনের জন্য সৈনিক জীবন ও এর পূর্বের কয়েকটি প্রসঙ্গ বিবেচনায় আনতেই হয়। যেমন, নজরুলের প্রথম পর্বের ছোটগল্পের উচ্ছ্বাসভরা, কাব্যময় রোমান্টিক বিরহ-ভারাক্রান্ত প্রেম-প্রসঙ্গকে কী আমরা কেবল প্রথম যৌবনের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখবো, না কি এর পেছনে রয়েছে ক্রিয়াশীল অন্য কোন কারণ বা পটভূমি ? অবশ্য সৈনিক-পর্বের গল্প ছাড়াও নজরুলের অপরাপর গল্পের প্রণয়ও রোমান্টিক বিরহে-ই স্থিত হয়েছে। ব্যথার দান গল্পগ্রন্থের উৎসর্গ - বাণীটি আমরা এই প্রসঙ্গে পর্যালোচনা করতে চাই। উৎসর্গপত্রে নজরুল লিখেছেন - ‘মানসী আমার ! মাথার কাঁটা নিয়েছিলুম বলে ক্ষমা করোনি, তাই বুকের কাঁটা দিয়ে প্রায়শ্চিত করলুম।’ আপাতদৃষ্টিতে এই ‘মানসী’কে রোমান্টিক নজরুলের ‘মানস-প্রিয়া’ বা কোন ‘কল্পনা-সুন্দরী’ বলে ভাববার অবকাশ থাকলেও মুজাফ্‌ফর আহম্মদের সাক্ষ্য তা বলে না :

অনেক দিন পরে আমারই কারণে নজরুল ইসলামের এই গ্রন্থখানা, আরও কিছু পুস্তক, কিছু চিঠিপত্র, অনেক দিনের পুরানো কবিতার খাতা, বিছানা, কিট্ব্যাগ, সুটকেস্ এবং ‘‘ব্যথার দান’’ পুস্তকের উৎসর্গে বর্ণিত মাথার কাঁটা খোয়া যায়। রক্ষিত মূল্যবান বস্তুর মতো নজরুল এই কাঁটাটিও রক্ষা করে আসছিলেন।’ (মুজাফ্‌ফর ১৯৯৫ : ১৭)

নজরুলের ঘনিষ্ঠ স্বজনদের একজন কমরেড মুজাফ্‌ফর আহম্মদের এই বক্তব্যকে আমরা অগ্রাহ্য করতে পারি না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কে সেই মানসী - যাকে নজরুল বেদনার সঙ্গে স্মরণে রেখেছেন। এর উত্তরে নজরুল-গবেষকেরা ভিন্ন ভিন্ন নারীর উল্লেখ করেছেন এবং নজরুলের পল্টনে যোগ দেওয়ার কারণ রূপে এই ব্যর্থ-প্রণয়কেই নির্দেশ করেছেন। এ বিষয়ে নজরুল গবেষক আবদুস সামাদের বক্তব্য :

রানীগঞ্জ শহরের জনৈক পুলিশ অফিসারের কিশোরী কন্যা স্বর্ণলতা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেম প্রার্থনা করে কবি ব্যর্থ হয়েছিলেন। ‘ব্যথার দান’ গল্প গ্রন্থখানি এই কিশোরীকেই উৎসর্গ করে কবি লিখেছিলেন ...। ব্যর্থ ভালোবাসার জ্বালা ভুলবার জন্য, মনস্তত্ত্বে যাকে ‘Sublimation’ বলে, যুদ্ধে যোগদান অস্বাভাবিক কিছু নয়। (উদ্ধৃত; লুৎফুল ২০১৩ : ২৬)

অন্যদিকে আর এক নজরুল-গবেষক শেখ দরবার আলম এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি অন্য সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে হাসনা নামের এক কিশোরীকে নজরুলের এই ‘মানসী’ বলে অনুমান করেছেন। যাহোক, এখানে আমাদের বক্তব্য নজরুলের মতো একজন জন্ম-বিদ্রোহী শুধু প্রেমের ব্যর্থতা ভুলতেই যুদ্ধে গেলেন - এটি মেনে নেওয়া কষ্টকর। আবার যতই বাউণ্ডলে স্বভাবের হোন না কেনো, লেখাপড়ার প্রতি নজরুলের বরাবরের আগ্রহে এ কথায় আমাদের প্রতীতী জন্মায় না যে, তিনি মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেওয়ার ভয়ে স্কুল পালিয়ে ফৌজে যোগ দেন। বরং প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যে, নজরুলের এই যুদ্ধে যোগদান মাতৃভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়। শিয়ারশোল স্কুলের শিক্ষক নিবারণ ঘটক বিপ্লববাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে অ্যারেস্ট হন। এ বিষয়ে মুজফ্ফর আহম্মদের প্রাসঙ্গিক বক্তব্য :

শ্রী নিবারণ চন্দ্র ঘটক ওই স্কুলে নজরুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ীও ছিল শিয়ারশোলেই। তিনি সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের পশ্চিমবঙ্গীয় দলের, অর্থাৎ যুগান্তর দলের সহিত সংযুক্ত ছিলেন। পল্টন হতে ফেরার পরে নজরুল নিজেই আমার নিকটে স্বীকার করেছিল যে সে শ্রী ঘটকের দ্বারা তাঁর মতবাদের দিকে আকর্ষিত হয়েছিল। (মুজফ্ফর ১৯৯৫ : ১৩)

(ক্রমশ)

লেখক: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/মে ২৫,২০১৮)