Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে ও কমছে

২০১৮ জুন ০৭ ১৫:১৬:৩৬
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে ও কমছে

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে ও আমদানিতে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়বে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটে পাউরুটি, বনরুটি, হাতে তৈরি বিস্কুট, কেক, দেশীয় মোটরসাইকেল, প্লাস্টিক ও রাবারের চপ্পলের এবং ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত এ সংক্রান্ত বেশকিছু ঘোষণা দেন।

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ভ্যাট ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আমদানিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে প্রায় ১১০০ ধরনের পণ্য আমদানি হয়, যেখানে ভ্যাট দিতে হয়।

আগামী অর্থবছর থেকে ছোট ফ্ল্যাট (১ থেকে ১১০০ বর্গফুট) কেনায় খরচ বাড়তে পারে। আর মাঝারি (১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট) ফ্ল্যাট কেনার খরচ কমতে পারে। কেননা বর্তমানে ১ থেকে ১১০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আর ১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ভ্যাটের হার রয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই দুই ধরনের ফ্ল্যাটের নিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে বড় ফ্ল্যাট (১৬০১ থেকে বেশি) নিবন্ধনের ভ্যাট হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এদিকে যারা পুরনো ফ্ল্যাট কিনবেন তাদেরও খরচ বাড়তে পারে। কারণ নতুন অর্থবছরে পুরনো ফ্ল্যাট পুনঃনিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

ফ্ল্যাট কেনার পর ঘর সাজানোর আসবাবপত্র কিনতে গেলে আগামী অর্থবছর বাড়তি চাপে পড়তে হতে পারে ক্রেতাদের। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আসবাবপত্র উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ১ শতাংশ করে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে আসবাবপত্র উৎপাদন পর্যায়ে ৬ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী অর্থবছর থেকে তা ৭ শতাংশ হারে প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর বিপণন পর্যায়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট পরিবর্তন করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

বর্তমানে নিজস্ব ব্র্যান্ড সংবলিত তৈরি পোশাক বিক্রিতে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আছে। সরকার আগামী অর্থবছর থেকে এ খাতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য ব্র্যান্ডবিহীন পোশাক পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর বর্তমানে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ভ্যাট হার ৫ শতাংশ প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। সম্প্রতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাত্রা বেড়েছে। এতে মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বাড়তে পারে।

বর্তমানে ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা অনেক বেড়েছে। এভাবে পণ্য ও সেবার পরিসর আরও বাড়াতে 'ভার্চুয়াল বিজনেস' নামে একটি সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে বাজেটে। অনলাইনভিত্তিক যে কোনো পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর এ সেবার আওতাভুক্ত হবে। এই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে তার ওপর ভ্যাট আরোপ করে। ট্যারিফ ভ্যালু সাধারণত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম হয়। ফলে একই হারে ভ্যাট আরোপ হলেও আমদানি পণ্যের চেয়ে দেশি পণ্যের ভ্যাট দিতে হয় কম। আসছে বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এ তালিকায় রয়েছে- টমেটো পেস্ট, কেচাপ, সস, বিভিন্ন ফলের পাল্প, ফলের জুস, ব্যবহার অযোগ্য ট্রান্সফর্মার অয়েল, লুবব্লেন্ডিং অয়েল, বিভিন্ন ধরনের পেপার ও পেপার প্রোডাক্ট, কটন ইয়ার্ন বর্জ্য, ওয়েস্ট ডেনিম, স্ট্ক্র্যাপ/শিপ স্ট্ক্র্যাপ, সিআর কয়েল, জিপি শিট, সিআই শিট, রঙিন সিআই শিট, ব্লেড, চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস।

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমছে

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে পাউরুটি, বনরুটি, হাতে তৈরি বিস্কুট, কেক, দেশীয় মোটরসাইকেল, প্লাস্টিক ও রাবারের চপ্পলের। এছাড়াও ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ কমবে।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত এ সংক্রান্ত বেশকিছু ঘোষণা দেন।

ব্যাংকিং খাতে কর্পেোরেট কর কমানো হচ্ছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে পারে সুদ হার। আরও কমবে কৃষিজমিতে রেজিস্ট্রেশনের খরচ।

এছাড়াও কমবে এনার্জি সেইভিং লাইট, টমেটো সস, ফলের জুস, গুড়ো দুধ, শিশু খাদ্য, স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি রেফ্রিজারেটর, এসি ও আমদানিকৃত হাইব্রিড গাড়ি ও টায়ারের।

পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এবং তালিকাবর্হিভূত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪২ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব।

এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। সামাজিক নিরাপত্তা কল্যাণ খাতে ২৭ হাজার ৫২৫ কোটি। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। প্রতিরক্ষা খাতে ২৯ হাজার ১০১ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ৬৭ হাজার ৯৪৪ কোটি।

জনশৃঙ্খলা খাতে ২৬ হাজার ৯৩৯ কোটি। রাজস্ববোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। কৃষিখাতে ২৬ হাজার ২৫৯ কোটি, স্থানীয় সরকার খাতে ৩২ হাজার ৬৭০ কোটি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/জুন ০৭, ২০১৮)