Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত

রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়াবেন ঘরোয়া পদ্ধতিতে

২০১৮ সেপ্টেম্বর ২৯ ১১:০৫:৩১
রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়াবেন ঘরোয়া পদ্ধতিতে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়টায় ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বাড়ে৷ বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনে রোগীর রক্তে প্লেটলেটের মাত্রা আচমকা কমতে শুরু করে৷ প্লেটলেট রক্তের এমন একটি কণিকা যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। রক্তের প্লেটলেট কমে গেলে অস্থিরতাবোধ, অবসাদ ও সাধারণ দুর্বলতাবোধ হতে পারে। তবে এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি আছে যার ফলে প্রাকৃতিকভাবেই প্লেটলেট বা অণুচক্রিকার সংখ্যা বাড়তে পারে শরীরে?

প্লেটলেট কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ

প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা আমাদের রক্তের অত্যাবশ্যক উপাদান৷ লোহিত আর শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট হয় অণুচক্রিকা৷ রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তক্ষয় ঠেকাতে অণুচক্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷ তাই অণুচক্রিকার মাত্রা কমে গেলেই শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যেতে আরম্ভ করে৷ অ্যানিমিয়া, ডেঙ্গি ও অন্যান্য কয়েকটি ভাইরাল ইনফেকশন, লিউকেমিয়ার কারণে এই সমস্যা হয়৷ কেমোথেরাপি, অতিরিক্ত মদ্যপান, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, লিভারের অসুখ, ক্যানসারের কারণেও প্লেটলেট কমে৷ অটো ইমিউন অসুখ, রক্তে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা কোনও ওষুধের প্রতিক্রিয়াও অণুচক্রিকার মাত্রা কমাতে পারে৷

প্লেটলেট কমছে বুঝবেন কীভাবে
ক্লান্তি, দুর্বলতা, চোট-আঘাত থেকে অনবরত রক্তপাত, ত্বকে চুলকানি, মল-মূত্র বা মাড়ি ইত্যাদি থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে অণুচক্রিকা কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ৷

এর হাত থেকে বাঁচার উপায়
ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন৷ অযথা নিজের বুদ্ধিতে কোনও ওষুধপত্র খাবেন না, তাতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে৷ এমন কয়েকটি উপায় আছে যার সাহায্যে প্রাকৃতিকভাবেই প্লেটলেটের মাত্রা বাড়তে পারে, তবে অসুস্থ রোগীকে দেওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নেবেন৷ ভিতর থেকে সুস্থ থাকার জন্য অবশ্য যে কেউ খেতে পারেন কারণ প্রতিটিই পুষ্টিকর৷

পেঁপে পাতা ও পেঁপে : পেঁপে পাতার রস আর পেঁপে খেলে রক্তে অণুচক্রিকার মাত্রা বাড়তে পারে, এমন একটা বিশ্বাস দীর্ঘদিন প্রচলিত৷ ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেছে এর সপক্ষে৷ তবে খাওয়ার আগে পাতা অতি অবশ্যই খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে৷ স্বাদ খুব খারাপ লাগলে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন৷

কুমড়ো আর কুমড়োর বীজ: কুমড়োর পুষ্টিগুণ প্রোটিন তৈরির পক্ষে খুব সহায়ক৷ প্রোটিন আবার প্লেটলেটের গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়৷ কুমড়োর ভিটামিন এ-ও প্লেটলেট তৈরিতে সাহায্য করে৷ তাই প্লেটলেট কাউন্ট বাড়াতে চাইলে কুমড়ো আর কুমড়োর বীজ দুটোই খেতে পারেন৷

লেবুর রস/ আমলকী: দুটিই ভিটামিন সি-র জোগান দেয়৷ ভিটামিন সি প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷ তা থেকে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা৷ ইমিউনিটি বেশি হলে প্লেটলেট ধ্বংস হওয়ার পদ্ধতিটা ত্বরান্বিত হবে না৷

বিটের রস: বিটের রস প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর৷ রোজ এক গ্লাস বিটের রস খেলেই ফলটা বুঝতে পারবেন৷

অঙ্কুরিত গম বা হুইটগ্রাস জ্যুস: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইউনিভার্সাল ফার্মাসি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ক্লোরোফিলে সমৃদ্ধ হুইটগ্রাসের মলিকিউলার স্ট্রাকচারের সঙ্গে হিমোগ্লোবিন মলিকিউলের গঠনের মিল আছে৷ সামান্য লেবুর রসসহ রোজ এক গ্লাস করে হুইটগ্রাস জ্যুস খেতে পারেন৷

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮)