Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

ব্যবসা সহজীকরণে বড় বাধা চুক্তি বাস্তবায়ন : বিশ্বব্যাংক

২০১৮ নভেম্বর ০১ ০৯:০৬:৫৮
ব্যবসা সহজীকরণে বড় বাধা চুক্তি বাস্তবায়ন : বিশ্বব্যাংক

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : কোন দেশে ব্যবসা করা কতটুকু সহজ, তা যাচাইয়ের অন্যতম একটি সূচক হলো এনফোর্সিং কন্ট্রাক্ট বা চুক্তি বাস্তবায়ন। বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এনফোর্সিং কন্ট্রাক্ট সূচকটি পরিমাপ করা হয় ব্যবসার বাণিজ্যিক বিরোধ মেটাতে প্রয়োজনীয় সময় ও ব্যয় এবং এ-সংক্রান্ত আইনি পদ্ধতির গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বলছে, ব্যবসার বাণিজ্যিক বিরোধ মেটাতে বাংলাদেশে সময় লাগে ১ হাজার ৪৪২ দিন। এতে ব্যয় হয় বিরোধে দাবি করা মোট অর্থের ৬৬ শতাংশ। বিরোধ মেটানোর আইনি পদ্ধতির গুণগত মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ফলে এনফোর্সিং কন্ট্রাক্ট সূচকে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯তম।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্বব্যাপী প্রকাশ পেয়েছে ব্যবসা সহজীকরণসংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট-২০১৯’। বিশ্বের ১৯০টি দেশের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা ব্যবসা সহজসাধ্যতা ১০টি সূচকের মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করে নিজেদের ১৬তম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনের জরিপে বিবেচনায় নেয়া সূচকগুলো হচ্ছে স্টার্টিং এ বিজনেস (ব্যবসা শুরু করা), ডিলিং উইথ কনস্ট্রাকশন পারমিট (নির্মাণ অনুমোদনসংক্রান্ত), গেটিং ইলেকট্রিসিটি (বিদ্যুৎ প্রাপ্তি), রেজিস্ট্রেশন প্রপার্টি (সম্পত্তি নিবন্ধন), গেটিং ক্রেডিট (ঋণ প্রাপ্তি), প্রটেক্টিং মাইনরিটি ইনভেস্টরস (ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষা), পেয়িং ট্যাক্স (কর পরিশোধ), ট্রেডিং অ্যাক্রস বর্ডার (সীমান্ত বাণিজ্য), এনফোর্সিং কন্ট্রাক্ট (চুক্তি কার্যকর) ও রিজলভিং ইনসলভেন্সি (দেউলিয়াত্ব ঘোচানো)। এ বছর সব সূচকের অগ্রগতি বিচার-বিশ্লেষণে ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৭৬তম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর বা প্রাপ্ত নম্বর ১০০-এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৯৭। ২০১৮ সালে ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রাপ্ত নম্বর ছিল যথাক্রমে ১৭৭ ও ৪০ দশমিক ৯৯। এ হিসাবে গতবারের চেয়ে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে।

প্রতিবেদনে ১০টি সূচকের মধ্যে এনফোর্সিং কন্ট্রাক্ট সূচকেই সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এ দেশে ব্যবসার বাণিজ্যিক বিরোধ মেটাতে ১ হাজার ৪৪২ দিন লাগলেও পাকিস্তানে এক্ষেত্রে সময় লাগে ১ হাজার ৭১ দিন। আর ব্যয় হয় বিরোধে মোট দাবিকৃত অর্থের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। শ্রীলংকায় বিরোধ মেটাতে সময় লাগে ১ হাজার ৩১৮ দিন আর ব্যয় হয় মোট দাবির ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। ভারতে এক্ষেত্রে সময় ১ হাজার ৪৪৫ দিন লাগলেও ব্যয় হয় বিরোধে দাবি করা মোট পরিমাণের ৩১ শতাংশ।

এনফোর্সিং কন্ট্রাক্টের মতো অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশে সময় লাগে অনেক বেশি। এখানে নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময় লাগে ২৭৪ দিনের মতো। বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগে ১৫১ দিন। আবার সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সময় লাগে ২৭১ দিন।

চুক্তি বাস্তবায়নের পরই বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে এবারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৩তম আর স্কোর ২৮ দশমিক ৯১। ২৭ দশমিক ৬৭ স্কোর নিয়ে ২০১৮ সালে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৫তম। সম্পত্তি নিবন্ধনের পর দুর্বলতম অবস্থানটি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম, স্কোর ৩০ দশমিক ৮১। ১৬ দশমিক ৯৭ স্কোর নিয়ে এ সূচকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৫তম।

সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে এবারের প্রতিবেদনে। এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম, স্কোর ৩১ দশমিক ৭৬। গতবার এ সূচকে অবস্থান ও স্কোর ছিল যথাক্রমে ১৭৩তম ও ৩৪ দশমিক ৮৬।

বিশ্বব্যাংকের এবারের প্রতিবেদনে ঋণ প্রাপ্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬১তম ও স্কোর ২৫। গত বছর ২৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫৯তম। দেউলিয়াত্ব ঘোচানোর ক্ষেত্রে এবার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৩তম ও স্কোর ২৬ দশমিক ২০।

প্রতিবেদনে অন্যান্য সূচকের মধ্যে বাংলাদেশে কর পরিশোধ ৫৬ দশমিক ১৩ স্কোর নিয়ে ১৫১তম, ব্যবসা শুরু করা সূচকে ৮০ দশমিক ৮২ স্কোর নিয়ে ১৩৮তম, নির্মাণ অনুমোদন সূচকে ৬০ দশমিক ৮২ স্কোর নিয়ে ১৩৮তম ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষায় ৫৫ স্কোর নিয়ে ৮৯তম অবস্থানে আছে।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/নভেম্বর ০১, ২০১৮)