Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার » বিস্তারিত

অভিনব পদ্ধতিতে অর্থপাচার করেছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স

২০১৯ জুলাই ২৫ ১০:৫৮:৫৮
অভিনব পদ্ধতিতে অর্থপাচার করেছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: অভিনব পদ্ধতিতে কোম্পানি থেকে অর্থপাচার করেছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইন্স্যুরেন্স। পাচার করা অর্থের হিসাব মেলাতে যাতায়াত, স্টেশনারি, বিনোদন ক্ষেত্রে কোম্পানিটি অবিশ্বাস্য খরচের চিত্র তুলে ধরেছে।

অর্থপাচারের সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেয়নি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের অর্থপাচারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তদন্তের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের অর্থপাচারের বিষয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। এতে বলা হয়, কোম্পানিটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) সৈয়দ মনিরুল হক প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বিভিন্ন খাতের টাকা তার নিজস্ব সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করছেন। অবৈধ এ লেনদেন করায় সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা তাদের ন্যায্য লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এরপর তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা পায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিএফআইইউ’র তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স থেকে সৈয়দ মনিরুল হকের ব্যাংক হিসাবে ২০১২ সালের ১৭ জুন থেকে ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা জমা করা হয় এবং উঠিয়ে নেয়া হয় দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

তদন্তে এমন তথ্য উঠে আসার পর বিএফআইইউ থেকে ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-কে চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে আইডিআরএ’র নেয়া ব্যবস্থা ইউনিটকে অবহিত করতেও বলা হয়। তবে অদৃশ্য কারণে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ গ্রহণে গড়িমসি করে আইডিআরএ।

এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়। প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থপাচারের তথ্য উঠে আসে। সেই সঙ্গে মনিরুল হকের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পর্ষদ জানত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যে কারণে বীমা আইন- ২০১০ এবং মানি লন্ডারিং আইন অথবা ক্রিমিনাল আইনে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে ওই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।

তবে অদৃশ্য কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকে আইডিআরএ। অবশ্য দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর একই তদন্ত দল দিয়ে এক বছর পর আরও একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে আইডিআরএ।

দ্বিতীয় তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থপাচারের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এতে বলা হয়, কোম্পানির কিছু শাখার ব্যবসায়িক ১৫ শতাংশের অতিরিক্ত কমিশনের অর্থ পরিশোধের জন্য শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের যোগসাজসে মনিরুল হকের ব্যাংক হিসাবে তা স্থানান্তর করা হয়। এমন লেনদেনকে মানি লন্ডারিং বলা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে তা বিবেচ্য বিষয়। এমন অভিমত দিয়ে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বীমা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

অর্থপাচার ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা
অর্থপাচারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আইডিআরএ’র কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয় ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল। এরপর আইডিআরএ থেকে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সর কাছে একই বছরের ১৩ জুন সাতদিনের মধ্যে ব্যাখ্যা এবং গোপন প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা ও প্রতিবেদন জমা দিতে ১৬ জুলাই আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়।

আইডিআরএ থেকে সময় বাড়ানোর মাত্র আটদিনের মাথায় দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে আইডিআরএ এক মাস সময় বাড়িয়ে দেয়। তবে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স গোপন প্রতিবেদন আইডিআরএ’র কাছে জমা দেয় ২৫ অক্টোবর। এরপর ৭ নভেম্বর একটি চিঠি দেয়।

ওই চিঠিতে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স থেকে মনিরুল হকের ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তরের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, এসব টাকা কোম্পানির অন্য শাখার উন্নয়নের ব্যয় হিসাবে খরচ করা হয়েছে। তাই বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করা হয়।

এরপর অদৃশ্য কারণে চার মাস নীরব থাকে আইডিআরএ। তবে হঠাৎ ২০১৮ সালের ৭ মার্চ অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই সদস্যের ওই তদন্ত কমিটিকে ২২ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তদন্ত কমিটি ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে, অর্থপাচারের বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বীমা আইন- ২০১০ এবং মানি লন্ডারিং আইন অথবা ক্রিমিনাল আইনে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে তদন্ত দল। যতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো বীমা কোম্পানি এমন কাজ করতে নিরুৎসাহিত হয়।

তবে অদৃশ্য কারণে আবারও নীরব হয়ে যায় আইডিআরএ। অবশ্য প্রায় এক বছর পর চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ১৮ মার্চ প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে ডাকে আইডিআরএ। ওই শুনানির মাধ্যমে মনিরুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

তবে ওই শুনানির আগেই নতুন (দ্বিতীয়) আর একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, যা কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে তৈরি করা হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। নতুন ওই তদন্ত প্রতিবেদনে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে শুধু বীমা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

খরচের অবিশ্বাস্য তথ্য
মৌখিক নির্দেশে আইডিআরএ’র তদন্ত দলকে দ্বিতীয় প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি মনিরুল হকের ব্যাংক হিসাবে নেয়া টাকা প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোন কোন খাতে খরচ করেছে তার একটি তালিকা সংগ্রহ করতে বলা হয়।

প্রতিবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া খরচের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই নয় দফায় ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে খরচ দেখানো হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮০ টাকা করে। একই হারে ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ছয় দফায় এবং ৩১ অক্টোবর ছয় দফায়। ৩১ ডিসেম্বর নয় দফায় ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়। এর মধ্যে আট দফাতেই ভ্রমণ খরচ হিসাবে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮০ টাকা করে।

একইভাবে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি চার দফায় ১৭ হাজার ৯৮০ টাকা করে ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে। একই হারে ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি তিন দফায়, ৩১ জুলাই দুই দফায়, ৩১ আগস্ট দুই দফায়, ৩০ সেপ্টেম্বর দুই দফায় এবং ২৮ নভেম্বর এক দফায়।

২০১৪ সালের বিভিন্ন তারিখে ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে ৩৯ দফায়। এর মধ্যে ৩৮ দফাতেই ভ্রমণ খরচ হিসাবে দেখানো হয়েছে ১৮ হাজার ৯৮০ টাকা করে। বাকি দফাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮০ টাকা। ২০১৫ সালের বিভিন্ন তারিখে ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে ২৬ দফায়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভ্রমণ খরচ দেখানো হয়েছে ১৮ হাজার ৯৮০ টাকা করে।

বীমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবার যাতায়াতের ক্ষেত্রে একই পরিমাণ অর্থ খরচ হওয়া অবিশ্বাস্য। ২০১৪ সালের যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে হারে খরচ হয়েছে, ২০১৫ সালেও খরচের পরিমাণ একই। এটা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। মূলত গোজামিলের মাধ্যমে হিসাব মেলাতেই হয়, তা-ই দেখানো হয়েছে।

পাঁচ বছর ধরে চলে অর্থপাচার
প্রাইম ইন্স্যুরেন্স থেকে অর্থপাচারের শুরুর দেড় মাস আগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের গুলশান শাখায় সৈয়দ মনিরুল হকের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খেলা হয়। ২০১২ সালের ১৭ জুন খেলা ওই হিসাবটির নম্বর ১১৬১০১০২৬১৭০৬। সঞ্চয়ী হিসাবটি খোলার পর ২০১২ সালের ৩১ জুলাই প্রথমে আট লাখ ৪০ হাজার ৪৬১ টাকা পাচার করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত আরও ৫৫টি কিস্তিতে মোট দুই কোটি ৪৩ টাকা পাচার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স থেকে অর্থপাচারের ক্ষেত্রে সৈয়দ মনিরুল হকের সঞ্চয়ী হিসাবে অধিকাংশ অর্থ জমা হয়েছে ট্রান্সফারের মাধ্যমে। ৫৬ কিস্তির মধ্যে ৪৭ কিস্তির টাকা সরাসরি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের হিসাব থেকে ট্রান্সফার হয়। বাকি নয় কিস্তির টাকা নগদে জমা হয়। এর মধ্যে ছয় কিস্তি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের তিন কর্মকর্তা জমা করেন। এক কিস্তি জমা দেন মাহাতামিম ফয়সাল নামের একজন। বাকি দুই কিস্তির টাকা কে জমা দিয়েছেন তা জানা যায়নি। জমা হওয়া এসব টাকার অধিকাংশই নগদ চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।

দুই বছর পর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল আইডিআরএ-কে চিঠি দিয়ে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে আইডিআরএ’র নেয়া ব্যবস্থা ইউনিটকে অবহিত করতে বলা হয়।

তবে আইডিআরএ প্রাইম ইন্স্যুরেন্সর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দুই বছর তিন মাস পর চলতি বছরের ৩ জুলাই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে একটি চিঠি দেয়।

দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরে মানি লন্ডারিংয়ের উপাদন রয়েছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপককে অনুরোধ করা হয়।

কে কী বলছেন
আইডিআরএ’র সদস্য এম মোশাররফ হোসেন এমন অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের অর্থপাচারের বিষয়টি আমাদের ইন্সপেকশন (তদন্ত) করতে হয়েছে। এরপর আমরা একটি সিদ্ধান্তে এসেছি। এজন্য একটু সময় লাগেই। আমরা একটি স্ট্যান্ডে এসেছি, বিএফআইইউ এটার লুক-আফটার (দেখভাল) করুক।

আইডিআরএ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আইডিআরএ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা তদন্ত করেছি। এটা কি ব্যবস্থা নেয়া নয়?

আইডিআরএ’র প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে মানিলন্ডারিংয়ের কথা বলা হলেও দ্বিতীয় প্রতিবেদনে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কারণ কী? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা হয় তো পরবর্তীতে আরও বেশি পরখ করার জন্য দেখা হয়েছে।

এরপর তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে কি দুটি তদন্ত প্রতিবেদনই আছে? উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলা হলে তিনি বলেন, শেষ রিপোর্টটাই গ্রহণ করবেন। ভুল তো হতেই পারে।

বিএফআইইউ’র উপদেষ্টা দেব প্রসাদ দেবনাথ বলেন, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি অভিযোগের বিষয়ে আইডিআরএ’র চিঠির মাধ্যমে অভিহিত করা হয়। তবে বিষয়টি এখন কী অবস্থায় আছে, আমি তা বলতে পারব না।

বিএফআইইউ থেকে ২০১৭ সালে তথ্য-প্রমাণসহ আইডিআরএ-কে চিঠি দেয়া হয়েছিল। এরপর আইডিআরএ এ বিষয়ে সুপারিশ করতেই দুই বছর পার করে। এত দীর্ঘ সময় লাগা কতটা যুক্তিসংগত? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তারা আসলে কী ধরনের ইন্সপেকশন করেছে, তা না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।

বিএফআইইউ’র মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদী খানমের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/জুলাই ২৫,২০১৯)