প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার » বিস্তারিত

‘মেনুপুলেট করে শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করার শক্তি কারো থাকবে না’

২০২১ জুলাই ১২ ২১:২১:৫৭
‘মেনুপুলেট করে শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করার শক্তি কারো থাকবে না’

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বছর খানেক আগে। সংকটে ভোগা পুঁজিবাজারের হাল ধরতেই মূলত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।তিনি পুঁজিবাজারের হাল ধরার এক বছরের মাথায়ই – পুঁজিবাজারের সংকট অনেকটাই কেটে গেছে।বেড়েছে পুঁজিবাজারের উপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা।এরই মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এশিয়ার সেরা বাজার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এক বছরেই এত কিছু কিভাবে সম্ভব হলো –তা নিয়ে দ্য রিপোর্টকে দেওয়াএকান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পত্রিকাটির সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু ও নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ শুভ।

এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল অনুসারে, মে মাসে এশীয় অঞ্চলের বাজারগুলির মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এইচএসবিসি ব্যাংক বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এশিয়ার সমপর্যায়ের বাজারগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মুনাফা দিয়েছে (২১দশমিক ৩শতাংশ)। এই মহামারীকালে এটি কিভাবে সম্ভব হলো ?

করোনার কারনে বিশ্বব্যাপি বিনিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাবনা অনেকটা সংকুচিত হয়ে আসছে। এ সময় মানুষ , কোথায় বিনিয়োগের ভাল সুযোগ রয়েছে সেটা খুঁজছে। তারা দেখতে পাচ্ছে , সারা পৃথিবীর অন্যান্য বাজারের যেখানে তথৈবচ অবস্থা, সেখানে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট গ্রো করছে ।রিটার্ন ভাল । বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গ্রোথ রেট এখন ২১ শতাংশের উপরে। এ জন্য তারা বাংলাদেশের বাজারের প্রতি আকর্ষিত হয়েছে এবং সূক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।এখন আমেরিকান বলেন,চাইনিজ বলেন –পৃথিবীর বহু দেশের বিনিয়োগকারীরা কমিশনে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। তারা সবাই এখন বাংলাদেশমুখী। যারা একটু দেখে শুনে বিনিয়োগ করছেন তারা সবাই এখন মুনাফা পাচ্ছেন। ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারী কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী– সবাই মুনাফা পাচ্ছেন। এতে বিদেশিরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। বড় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে রোডশোগুলো এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক সংবাদ যা ক্ষতি করেছিলো আমাদের– আমরা ইতোমধ্যে সে যায়গা থেকে বের হয়ে এসেছি। রোডশোগুলোতে আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে বাংলাদেশ একটি উদিয়মান অর্থনীতির দেশ।এবং এখানে সম্ভাবনার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।এই ইতিবাচক খবরগুলো আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পাচ্ছে।বিদেশি মিডিয়া বা পর্যবেক্ষকরাও সায় দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশ ভাল করছে। তারা জেনে গেছে, এখন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে গুড গভর্নেন্স চলে এসছে। এগুলোই পুঁজিবাজারে ইতিবাচকতার গোপন সূত্র।

বাজারে প্রতিদিনের টার্নওভার ৫০০ কোটির আশেপাশে দেখতেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আপনি আসলেন, তারপর গল্পের চিত্র পাল্টে গেল।গত মাসেই গত দশ বছরের রেকর্ড লেনদেন হলো ডিএসইতে। এখন একটু কমলেও, দেড়- দুই হাজার কোটির ঘরেই আছে লেনদেন।এমন কোন্ নীতি এটি করতে সাহায্য করছে ?

মানুষ আস্থার যায়গা খোঁজে সবসময়।কষ্টের সঞ্চয়কে সঠিক যায়গায় বিনিয়োগ করতে চায় সবাই। মানুষ ভাবছে, পুঁজিবাজারে এখন আইনের শাসন আছে,লাভ করার সুযোগ আছে। পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। এ কারণেই মূলত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমান বাড়ছে অর্থ্যাৎ লেনদেন বাড়ছে।

এইচএসবিসির প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে - আমাদের বাজারটি তারল্য নির্ভর তবে এটিতে লুকানো রত্নও রয়েছে। এই রিপোর্ট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী ?

আমাদের উদ্যেগে অনেক ইনোভেটিভ প্রোডাক্টতৈরি হচ্ছে এবং সামনে আরও আসবে ।আমাদের ফাউন্ডেশন তৈরি হয়ে গেলেই আমরা ইনোভেশনগুলো নিয়ে আসবো। ইনোভেশনগুলো আসলে দেখা যাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে ।বন্ড মার্কেটের কথাই ধরা যাক । এটাতে সমূহ সম্ভাবনা আছে। আমরা সুকুক বন্ড নিয়ে এসছি।এটা ভাল প্রভাব ফেলেছে বাজারে। সম্প্রতি গ্রীন বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হলো। সামনে ব্লু বন্ড আসবে। এরকম আরও অনেক কিছু সামনে আসবে। এগুলোকেই লুকানো জেম (রত্ন) বলা হচ্ছে ।মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কমিশন নতুন পোর্টফোলিও করছে। নতুন নতুন প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে।সামনে আরও ম্যাচুউরড প্রোডাক্ট আসবে। যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।যদিও এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য সঠিক পরিমানে জনবল নেই। এজন্য বিআইসিএম,বিএসম কাজ করছে।চাহিদামাফিক জনবল পাওয়া মাত্রই আমরা কম্যুডিটি মার্কেটে কাজ শুরু করে দিবো।

গত বছরও আমাদের মার্কেট ক্যাপিটাল জিডিপির প্রায় ১৪শতাংশ ছিল এবং সম্প্রতি মার্কেট ক্যাপিটাল জিডিপির প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক ।তবে, পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে যদি আমরা তাকাই, ভারতে জিডিপির তুলনায় শেয়ারবাজারের মূলধনের অনুপাত ৬২.৭৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৮৯.২৯ শতাংশ। এমনকি পাকিস্তান- যাদের জিডিপির তুলনায় মার্কেট ক্যাপিটালের অনুপাত বেশ বেশি।এ বিষয়টি কমিশনকে ভাবাচ্ছে ?

এটাতো মেনেই নিতে হবে যে,আমাদের জিডিপির তুলনায় বাজার মুলধনের অনুপাত তুলনামূলকভাবে বেশ কম ।এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। গত এক বছরে আমরা বাজার মুলধন ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পেরেছি (জিডিপির তুলনায়) । সামনেই এটি কয়েকগুন আকারে বাড়বে। এখন এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার চাঙা হওয়ার পেছনে বন্ডের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। তবে বন্ড বাজারের সুযোগ বা চ্যালেঞ্জটাও তো কম নয়!

বন্ড বাজারের যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিলো সেটা কেটে গেছে। আমরা এখন কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি না বা করতে হচ্ছে না। বন্ড বাজারে এখন তুমুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। বন্ড বাজারে আসলেই সেখানে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। সুকুক বন্ডের কথাই যদি ধরা হয় তাহলে দেখা যাবে সেখানে ৫০ গুন বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যে নতুন বন্ডগুলো নিয়ে আসছি সেগুলো সাথে সাথে সাবস্ক্রাইভড হয়ে যাচ্ছে।তাই বন্ড নিয়ে আমাদের কোন চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ হলো এই বাজারটিকে ঠিক মতো দেখভাল করা । কমিশন এ বিষয়ে সজাগ ।কমিশন যদি ঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে পারে ,কুপন পেমেন্ট যদি ঠিকভাবে হয় তাহলে বন্ড মার্কেটে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নানা সমস্যা নিয়ে নানা সময়ে কথা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির আইটি ব্যবস্থা বড্ড সেকেলে বলছেন সবাই। আপনারা তাগাদাও দিচ্ছেন বারবার। কাজের কাজ কিছু হচ্ছে?

আমরা ডিএসইর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হিউম্যান ক্যাপিটাল নিয়ে কাজ করছি। ইতিমধ্যে, ডিএসইর এমডি নিয়োগ হয়ে গেছে। আশা করছি আস্তে আস্তে সব কিছু ঠিক হয়ে আসবে। ডিএসইর আইটিতে বড় ধরনের সমস্যা আছে ।আমরা গত একবছর ধরে ডিএসইকে তাগাদা দিয়েও অবস্থার তেমন একটা পরিবর্তন আনতে পারিনি। তবে, ডিএসই সম্প্রতি আমাদের ছয়মাসের একটি ফ্লোচার্ট দিয়েছে, সেটা যদি কাজ করে তাহলে আশা করা যাচ্ছে আগামী ছয়মাসের মধ্যে ভাল কিছু হবে।ডিএসইর আইটি ব্যবস্থা খুবই দূর্বল। শুধু যে সফ্টওয়্যার সেটা না,বরং টোটাল প্ল্যানিং, এর সক্ষমতা,ডিজাস্টার রিকোভারি ইউনিট,ওএমএস সিস্টেম হয়তো ২০ বছর আগে ঠিক ছিল। কিন্তু এখনকার বাজারের সাইজ,এখনকার লেনদেন,এখনকার ভলিয়্যুমের সাথে এটা কোনভাবেই যায়না ।বাজার বৃদ্ধির সাথে সাথে যতোটা উন্নতির দরকার ছিল সেটার কিছুই হয়নি।যে কারনে আমরা এ অবস্থায় পড়ে গেছি। তো, এসব যায়গায় তুলনামূলক উন্নয়নের জন্য দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যায় আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিষয়গুলো দৃশ্যমান হওয়া শুরু করবে।

পুঁজিবাজারকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিনিয়োগকারীরা স্বস্তিতে আছে। কিন্তু বাজার অস্থিতিশীল করতে চাওয়া লোকগুলো তো আর নি:শেষ হয়ে যায়নি !

যারা দুইটা-তিনটা কোম্পানির স্বার্থে বিনিয়োগকারীদের নি:স্ব করার পায়তারা করে; ভুল কাগজপত্র বানিয়ে,ছলছাতুরি করে, প্রতারণা করে শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করার চিন্তায় মগ্ন- তাদের বিরুদ্ধে আমরা অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা তাদেরকে ব্ল্যাক লিষ্ট করে দিবো।খুব শীগ্রই আমরা ইস্যু ম্যানেজারদেরকে শাস্তি দেওয়া শুরু করবো।ইতিমধ্যে আমরা ডিজক্লোজারের জন্য অডিটরদের শাস্তি দিয়েছি।সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আইপিও অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আগে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো এখন আর নেই। যেসব কোম্পানির আইপিও আগে থেকে পেন্ডিং ছিলো সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে ছাড়ছি । যেগুলো দূর্বল কোম্পানি সেগুলোকে এসএমইতে দিয়ে দিচ্ছি, যেগুলো একেবারেই অযোগ্য সেগুলোকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি। সামনে কোন দূর্বল কোম্পানির আইপিওতে আসার সুযোগ নাই। আর ডিসক্লোজারের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা অডিটরদের শাস্তি দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ- সামনে আপনাদের কাছে ভাল কাগজপত্রের ,ভাল কোম্পানি আসবে। এখন আর প্রতারণার কোন সুযোগ নেই। এনবিআর,এফআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসইসি মিলে সমন্বিতভাবে ডিসক্লোজার বন্ধে কাজ করছে। এখন তিন যায়গায় পাঁচ রকমের কাগজ দেওয়া বন্ধ হয়েছে। এখন সবাইকে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড হতে হবে।পেপার শেয়ার রাখা যাবে না।কারণ আমাদের ওটিসিতে কাজ চলছে,জেড ক্যাটাগরিতে কাজ চলছে,এএমইতে কাজ চলছে। সুতরাং ডিজিটাল বাংলাদেশে আমরা পেপার নিয়ে কাজ করতে পারবো না। ওটিসি মার্কেটে থাকা মানে সুবিধা করে দেওয়া । দেখা গেছে, এই সুবিধা নিয়ে গত ৩০ বছরে জনগনের টাকা নিয়ে এরা আরামে রয়ে গেছে,জমি-জমা বিক্রি করে ফেলেছে,স্পটে শেয়ার বিক্রি করেছে। অনেকে অনেক ধরনের কারসাজি করে আমাদের বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে। সেজন্য আমরা ওটিসিতে তাদের আর রাখছি না । আমরা তাদের ওটিসি থেকে বের করে দিবো,নয়তো এসএমইতে দিয়ে দিবো অথবা, ভালভাবে চলার জন্য মেইন বোর্ডের অধীনে চলে আসতে হবে। ওইখানে বসে থাকার আর সুযোগ থাকবে না ।

পুঁজিবাজারের বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই গলায় কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে বিমাখাত । কম পারফরমেন্স করা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরও অকল্পনীয় আকারে বাড়ছে। নতুন করে, বস্ত্র খাতের শেয়ারের দরও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।বাজারে কারসাজির অভিযোগ তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। বলা হচ্ছে, এক্সচে্ঞ্জগুলো দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে শুধু চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত দিচ্ছে। এ বিষয়ে কমিশন কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা?

আসলে নির্দিষ্ট কোন খাত নিয়ে সেভাবে কারসাজির সুযোগ আর নেই।আমাদের সার্ভেইলেন্স টিম খুবই শক্তিশালী।আমাদের আইনে, যেসব সিরিয়াল ট্রেডিং ,ইনহাউজ-ইনসাইড ট্রেডিং হয় ; কারসাজির সাথে যাদের নাম উচ্চারিত হয় - তাদেরকে আমরা ডেকে নিয়ে এসে কথা বলেছি। আমাদের শক্তিশালী সফ্টওয়্যার দিয়ে তাদের মনিটরিং করছি। তবে, দেখা যাচ্ছে একই ধরনের স্ক্রিপ্টে একই সাথেহাজার জনকাজ করে। এবং কারও সাথে কারও সম্পর্ক আমরা পাচ্ছি না। সেজন্য আমাদের আইন মোতাবেক- সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে তাদেরকে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আমরা ডেকে নিয়ে এসে তাদের সাথে কথা বলছি, সাবধান করছি । এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা যেমন সতর্ক ,কমিশনও তেমন সতর্ক । তাই আশা করছি, এখন আর আগের মতো কিছু করা (২০১০ পরবর্তী পুঁজিবাজারে ধস ) সম্ভব হবে না ।বাজার যেভাবে বড় হয়ে যাচ্ছে তাতে, মেনুপুলেট করে বাজারকে অস্থিতিশীল করার শক্তি কারও থাকবে না । এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে আমাদের সমস্ত ‘ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি খুব ভালভাবে কাজ করছে। আশা করছি ,সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি এবং নিয়ে আসবো’ ।

পুঁজিবাজারে এসএমই খাতের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে বলুন -

এসএমই কোম্পানিগুলো বাজারে এসে গেছে।ইতোমধ্যে এটি রান করেছে। আরও নয়টি আসছে সামনে। তাছাড়া ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) থেকে (যাদের পরিশোধিত মূলধন অনেক কম ছিল ) ২০-২৫ বছর আগের কোম্পানি ওখানে পড়ে আছে যেসব কোম্পানিগুলো আমরা এসএমইতে নিয়ে আসবো।

এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছেন ,দেশের রাঘববোয়ালদের উৎপাত বা চাপ কিভাবে মোকাবেলা করেন ?

আজকে পর্যন্ত,আমার উপর সরকারের সর্বোচ্চ যায়গা থেকে শুরু করে অন্য যে কোন যায়গা থেকে কোন ধরনে চাপ আসেনি।তবে, আমার কাছে অনুরোধ আসতে পারে যে –‘ব্যাপারটা একটু দেখেন’ । সেটা আমরা দেখছি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে তাদেরকে যায়গা দেওয়া হচ্ছে,না ঠিক থাকলে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।এতে চাপের কোন ব্যাপার নেই। এ জন্য আমি খুবই সৌভাগ্যবান।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যাংকপাড়ার ক্ষুদ্র কোন বিনিয়োগকারী- বলতে গেলেসবার কাছেই ‘জয়ধ্বনি’ পাচ্ছেন। উপভোগ করছেন ব্যাপারটা ?

এটা আসলে উপভোগ করার মতো বিষয় না। আমার উপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা আমি পালন করছি মাত্র ।আমার চেয়ারের যা করার কথা, দায়িত্ব, সেটাই আমি করছি।এর অতিরিক্ত কিছু করছি না।এই সেক্টরটা অনেক গুরত্বপূর্ণ অর্থনীতির জন্য। পুঁজিবাজারের চাকা ঠিকভাবে চললে দেশের অর্থনীতিও ঠিক থাকবে। পুরো ব্যবসা খাত,অর্থনীতি খাত ঠিকভাবে চলবে। আমরা যদি বাজারটিকে সঠিক ভাবে পরিচালিত করতে পারি , গুড গভর্নেন্সবজায় রাখতে পারি তাহলে- দেশের কিছু দূর্বৃত্ত আছে তারা অর্থনীতি খাত নিয়ে ছিনিমিনি খেলার আগেই সাবধান হবে। তখনই আমাদের ফাইনান্সিয়াল সেক্টরটা ঠিক হয়ে যাবে।দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে –এখন আমাদের শুধু একটি পরিছন্ন অর্থনৈতিক খাত দরকার।প্রধানমন্ত্রী সেটাই চাচ্ছেন।উনি আমাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছেন ।উনি যেভাবে আমাকে শক্তি সাহস দেন –তাতে আমি নির্ভয়ে কাজ করছি। অর্থমন্ত্রী আমাকে ফোন করে আমার সাথে আলাপ করে নানা সময় নানা বিষয়ে সাজেশন দেন। আমাদের মিনিষ্ট্রিগুলো, দুইজন সচিব সবসময় আমাকে সাহায্য করছে, উপদেশ দিচ্ছে,ফাইল গেলে কাজ করে দিচ্ছে।প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, পিএমও (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ) সবাই আমাকে সাহায্য করছেন। সুতরাং আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। অতিরিক্ত কিছু করছি বলে মনে করছিনা।

বিনিয়োগকারীরা যেভাবে আস্থা রেখেছে আপনার উপর,তথা পুঁজিবাজারের উপর;সামনে আস্থার যায়গাটা কোন কারণে নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার শঙ্কা কাজ করে না ?

আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই চালিয়ে যাচ্ছি। পুঁজিবাজার যেভাবে চলছে সামনে আরও ভাল চলবে বলে আশা করছি। আমরা বিনিয়োগকারীদের বিষয়টিই আগে প্রাধান্য দেই যাতে তারা কোন ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন না হন । কমিশন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সব ধরনের কাজই করে যাচ্ছে। এ যায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই আস্থার যায়গায় ভাঙন ধরার কোন শঙ্কা নেই।

দ্য রিপোর্ট/এএস/১২জুলাই/২০২১