Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

বিলীন হতে বসেছে ইলিশ রফতানির প্রাণকেন্দ্র ঢালচর

২০১৪ জুন ০৩ ২১:২০:২৭
বিলীন হতে বসেছে ইলিশ রফতানির প্রাণকেন্দ্র ঢালচর

জুয়েল সাহা বিকাশ, ভোলা : ভোলার ইলিশ রফতানির প্রাণকেন্দ্র চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়ন এখন মেঘনার ভয়াল গ্রাসে প্রতিনিয়ত বিলিন হচ্ছে। শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন ঠাঁই নিয়েছে রাস্তায়। তাদের দুর্গতি দেখার যেন কেউ নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোলা জেলার বঙ্গোপসাগরের মোহনায় একমাত্র ইলিশ রফতানির প্রাণকেন্দ্র হলো এই চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর। কিন্তু ভয়াল মেঘনার গ্রাসে এই ঢালচর ইউনিয়ন এখন চরফ্যাশনের মানচিত্র থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের ফলে বহু লোক তাদের বসতভিটা, বাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এই চরের মানুষগুলো নদী ও সাগরের মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। প্রতিনিয়ত বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবেলা করে এই চরে কোনরকমে বেঁচে আছে এখানকার বাসিন্দারা।

তাদের জন্য ঢালচর বাজার সংলগ্ন একটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেই আশ্রয়কেন্দ্রের একাংশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও অপরাংশে ইউনিয়নবাসীর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রয়েছেন। নদী ভাঙনের ফলে এই আশ্রয়কেন্দ্রটিরই ‘আশ্রয়ের’ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর একটু পাশেই রয়েছে অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। যা নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার প্রহর গুনছে।

এলাকার কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবেলা করে এই চরে কোনরকম বেঁচে আছি। আস্তে আস্তে এই চর নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। তাই আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কোথায় গেলে পাব একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই।

আরিফুল ইসলামের মতোই রাক্ষুসী মেঘনার ভয়াল ভাঙনের কবল থেকে এই বর্ষা মৌসুমের আগেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়নকে রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

ইউনিয়নের একটি মাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম বলেন, নদী ভাঙনের কারণে বহু লোক তাদের ভিটা, বাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ফলে তারা বেঁচে থাকার তাগিদে আশ্রয় খুঁজছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, প্রতিনিয়ত ভয়াল মেঘনার গ্রাসে এই ঢালচর ইউনিয়ন এখন হারিয়ে যাচ্ছে। বর্ষার পাশাপাশি শীত মৌসুমেও নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। এই নদী ভাঙনের কারণে বহু লোক আজ সহায়সম্বল হারিয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম পাটোয়ারী বলেন, নদী ভাঙন বন্ধের জন্য শক্ত বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবিতে কয়েকবার আমিসহ এলাকার লোকজন মিলে মানববন্ধন করেছি। এছাড়াও চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ঢালচর এলাকাবাসীর দাবি পূরণের জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করি সরকার দ্রুত তাদের দাবি পূরণ করবে।

(দ্য রিপোর্ট/জেএসবি/এপি/এনআই/জুন ০৩, ২০১৪)