Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » বিশ্ব » বিস্তারিত

ভিসা বাতিলে ভারতের যুক্তি সঠিক না: লর্ড কার্লাইল

২০১৮ জুলাই ১২ ২১:২৬:৩৩
ভিসা বাতিলে ভারতের যুক্তি সঠিক না: লর্ড কার্লাইল

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল দাবি করেছেন, ‘ভ্রান্ত’ কারণ দেখিয়ে তাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিজের ভিসা আবেদন যথার্থ ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

কার্লাইলের ভিসা ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে বুধবার (১১ জুলাই) তাকে দিল্লির বিমানবন্দর থেকে লন্ডনে ফেরত পাঠায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে কার্লাইল লন্ডন থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তবে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই কার্লাইলকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ব্রিটিশ নাগরিক লর্ড আলেক্সান্ডার কার্লাইল ১১ জুলাই নয়া দিল্লিতে পৌঁছেছেন যথাযথ ভারতীয় ভিসা ছাড়াই। তার ভিসা আবেদনে ভারতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, কার্লাইলের সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সে কারণেই তাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এ দাবি নাকচ করে দেন কার্লাইল। লর্ড আলেক্সান্ডার কার্লাইলের দাবি, তিনি যথার্থ ভিসা নিয়েই ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভিসা আবেদন পুরোপুরি সঠিক ছিল এবং প্রত্যাহারের আগে পর্যন্ত এ নিয়ে কখনও প্রশ্ন করা হয়নি। ভারতীয় দাবিটি ভ্রান্ত।’

৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন। এ মামলায় খালাস চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই)। এই মামলা নিয়ে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল। তার আগেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

কার্লাইল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সরকার ইচ্ছে করেই তাকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিলম্ব করছিল। ‘মুক্ত সংবাদমাধ্যমের’ সঙ্গে কথা বলার আশাতেই ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি। কার্লাইল বলেন, ‘বিচার বিভাগের ওপর বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম আমি। সংক্ষেপে বললে, অসাধুতা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গ্রহণযোগ্য কোনও প্রমাণ ছাড়াই সেখানে আমার মক্কেলের (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।’

কার্লাইলের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার খালেদা জিয়া, তার যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ছেলে তারেক রহমান ও তাদের দলকে রাজনীতিতে ও আসন্ন নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় করে দিতে চাইছে। একে ‘গণতন্ত্রের অপমান’ বলে দাবি করেন তিনি। কার্লাইল বলেন, ‘শেষ লক্ষ্য পরিষ্কার। বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে উটকো মামলা দিয়ে বিচার বিভাগের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কারণ, মানুষ মোটামুটিভাবে যেকোনও বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার ওপর বেশি আস্থাশীল।’

কার্লাইল বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আমার মক্কেলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আপিলে তার জামিন স্থগিত রাখার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ পদ্ধতিগত অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে এই মামলায় উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হওয়ায় সংবাদমাধ্যমে আমাকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এটা আদালতে চলমান মামলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নিকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়া, এই বেঞ্চে নিয়োগ পাওয়ার আগে এসব বিচারক আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাই তাদের সামনে শুনানি চলায় তা প্রভাবিত হয়েছে।’

কার্লাইল খালেদা জিয়া ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি মামলার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি হাস্যকর হিসেবে উল্লেখ করেন।

(দ্য রিপোর্ট/এমএসআর/জুলাই ১২, ২০১৮)