Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত

মহামারীতে সেবা দিয়ে ইতিহাসে নায়ক যারা

২০২০ এপ্রিল ২১ ১৪:২৭:২৭
মহামারীতে সেবা দিয়ে ইতিহাসে নায়ক যারা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমণ চলছে আমাদের বাংলাদেশেও। আর মরণব্যাধী এই ভাইরাসটির সামনের সারির যোদ্ধা হচ্ছেন আমাদের চিকিৎসকগণ।

সারা বিশ্বে এখনো পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১’শ জনের বেশি মহান চিকিৎসক। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে যেন তার একটু ব্যতিক্রম চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে আমাদের অনেক চিকিৎসক প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির চিকিৎসা প্রদানে বিরত রয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ৬৮ শতাংশ করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা হচ্ছে বাড়িতে বসে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এ ধরণের মহামারীর ঘটনা নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে বিশ্বস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এ রকম মানবিক বিপর্যয় বহুবার এসেছে।

আর এ সকল মহামারীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও সর্বোপরি মানবিকতাবোধ থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন বহু চিকিৎসক। আর তাদের এই আত্মদান মানব ইতিহাসে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। সোনার অক্ষরে তাদের নাম লেখা রয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে, লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে।

শুরুতেই বলছি ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের কথা। তিনি অবশ্য চিকিৎসক নন, নার্স। ওষুধ প্রেসক্রাইব করার পরিবর্তে তিনি রোগীকে সুস্থ করে তুলতেন সেবা দিয়ে। আর চিকিৎসা সেবার ইতিহাসে তার নাম ছাপিয়ে গেছে চিকিৎসকদেরও। চিকিৎসা সেবার কথা মনে হলেই আমাদের মাথায় যে নামটি সবার আগে চলে আসে তা হল ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল।

ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান বা বিখ্যাত হয়ে উঠেন ক্রিমিয়ার যুদ্ধে। যখন ব্রিটেনে যুদ্ধাহতদের করুণ অবস্থার খবর আসতে শুরু করে, তখন এটি তার চিন্তার মূল বিষয় হয়ে দাড়ায়।

১৮৫৪ সালের ক্রিমিয়ার যুদ্ধের যুদ্ধাহত সৈনিকদের সেবা করার জন্য তার কাছেই প্রশিক্ষণ নেন ৩৮ জন সেবিকা। যুদ্ধের মতো প্রতিকূল পরিবেশে অসীম সাহসিকতা নিয়ে পরম মমতায় নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যান যুদ্ধাহতদের। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সেবা দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন পুরো বিশ্বকে। নার্সিং সেবার এই অগ্রদুত আজ পরিচিত ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ নামে।

এডওয়ার্ড জেনার। পেশায় ছিলেন একজন ইংরেজী চিকিত্সক। গুটি বসন্তের আক্রমনে সারা দেশ যখন দিশেহারা, তখন এগিয়ে আসলেন তিনি। অসীম সাহসিকতা দিয়ে কাজ করে গেলেন। আর তাকেই আজকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ইমিউনোলজির জনক’ বলা হয়। কেন জানেন? কারণ পরে তার হাতেই তৈরি হয় প্রথম গুটি বসন্তের টীকা। আর মহান এই চিকিৎসকের অবদানে বিশ্ব আজ গুটি বসন্ত মুক্ত।

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নাম শুনেননি এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসেও এক সময় মারা গেছেন অনেক মানুষ। আর এর সমাধানে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসলেন এক স্কটিশ চিকিৎসক। তার নাম অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং। আর অনেকটা আকস্মিকভাবে তৈরি করে ফেললেন জীবন রক্ষাকারী পেনিসিলিন। আর শুধু এই কারণেই তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে সেরা ১০ চিকিৎসকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।

এবার বলব এক চীনা চিকিৎসকের গল্প। মহান এই চৈনিক চিকিৎসকের নাম লিউ ঝিমিং। চীন দেশে প্রাণঘাতী করোনা মোকাবেলার সেনাপতি তিনি। উহানের উচ্যাং হাসপাতালের এই পরিচালক প্রতিনিয়ত করোনা যুদ্ধে চিকিৎসকদের উৎসাহ যুগিছেন। অবশ্য সর্বনাশা ভাইরাসটির হাত থেকে বাঁচতে পারেননি তিনিও। কিন্তু তাতে কি? মানবসভ্যতার ইতিহাসে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন পেশাদারিত্বের জন্য, মানবিকতার জন্য আজীবন ইতিহাস হয়ে থাকবেন তিনি। আজীবন চাইনিজদের হৃদয়ে অক্ষত হয়ে থাকবে লিউ ঝিমিং।

আর এভাবেই প্লেগ, স্প্যানিশ ফ্লু, ইবোলা, জিকা, এইডস ভাইরাসের মতো মহামারি বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সময়ে সাহসিকতা দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে গেছেন অসংখ্য চিকিৎসক। আর তারাই চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মানব ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।

শত শত বৎসর ধরে মানুষের মুখে আলোচিত হচ্ছে তাদের নাম। তাদের এসকল বীরত্বগাঁথা গল্প এখনো অনুপ্রাণিত করে নবীন চিকিৎসকদের। এমন কিছু চিকিৎসকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নারী চিকিৎসক হেলিন ডি গেইল, ফ্রান্সের জর্জেস ম্যাথে, মার্কিন চিকিৎসক চার্লস রিচার্ড ড্রিও অন্যতম।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২১এপ্রিল,২০২০)